Sunday, May 26, 2019

এখন বিকেল

বহু দূর থেকে ভেসে আসছে চেনা গানের সুর। এই সময়টাতে মাথার ওপর পাখাটার দম ফেলার সময় নেই। একই কক্ষপথে ঘুরে চলেছে অবিরাম। আমাদের বাড়ির পাশের নিম গাছে যে পাখি গুলো বাসা বেঁধে থাকে তাদের এখন ঘরে ফেরার পালা। স্ট্রিট লাইটের জ্বলে উঠতে বাকি ঠিক পনেরো মিনিট। ঘ্যারঘ্যার শব্দে শাটার তুলছে মুদির দোকানি। চেনা পথে হন্তদন্ত হয়ে হেটে চলে যাচ্ছে অচেনা অনেক তরতাজার দল। পাশের বাড়ির ছোট্ট মেয়েটা রোজকার মতন রেওয়াজে বসবে এখন।

আমার বাড়ির গোটা চারেক বাড়ির পরেই মুসলমান পল্লী। সেখানে এখন রমজানের রোজা ভাঙার প্রস্তুতি। ক্লান্ত সবাই। মসজিদে আজান শেষ হয়েছে বেশ কিছুক্ষণ হল।

আমার ঘরের আলোটা ক্রমে কমে আসছে। বিকালের চা শেষ হয়েছে বেশ কিছু সময় আগে। তবু আলো জ্বালাতে ইচ্ছা করছে না। এই আবছায়াটাই বেশ উপভোগ করি এখন। টিভি সিরিয়াল শেষের পরিচিত টাইটেল ট্রাকের পরেই এখন বেজে ওঠে শাঁখ। যদিও তার বেশ কিছু আগেই আকাশে ফুটে উঠেছে সন্ধ্যা তারা। ঠিক এই সময়টাতেই রোজ মাথায় ঝুড়ি বোঝাই করে কুলফিমালাই ওলা হেকে যায়। আর যায় বেলফুলের মালা হাতে নিয়ে ফুলওলা ঠিক এই সময়টাতেই। তার অনেক আগেই চলে গেছে ঘুগনিওয়ালা আর ফুচকাওয়ালা রোজকার মতন।

যত দিন যাচ্ছে, খেলা পাগল ছেলেমেয়ের দল যেন কমে আসছে। সবাই সামিল আজ ইঁদুর দৌড়ে। কিন্তু দৌড়োতে গেলে তো শারীরিক সক্ষমতা লাগে। সময়ের তালে ছুটতে গিয়ে হুমড়ি খেয়ে পরার উপক্রম।

আজ বোধহয় বৃষ্টি হবে। কালো পিঁপড়ের দল মুখে ডিম নিয়ে লাইন লাগিয়েছে নিরাপদ স্থানের দিকে। বড্ড গরম পরেছে কয়েক দিন হল। গাছের পাতাগুলো কাঁপছে তিরতির করে। গোটা চারেক আরশোলা বেড়িয়েছে তাদের খাবারের সন্ধানে। আর দেওয়ালের টিকটিকিটা অপলক চেয়ে আছে। দৃষ্টি মনে হয় শিকারের দিকেই। বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যে নেমে আসছে মফস্বলে, আমার পাড়ায়, আমার ঘরে।

~ সৌমিক মুখোপাধ্যায়
~ ২৫ মে, ২০১৯

No comments:

Post a Comment

দুঃসময়

সত্যি কি আমাদের কিছু আসে যায়? সন্ত্রাসে মরে সেনা মন্ত্রীরা করে হায় হায়। সত্যি কি আমাদের কিছু আসে যায়? মৃত সেনার ছবি খবরের পাতায় পাতায়। ...