Saturday, July 21, 2018

ভয়

গ্রামের ছোট্ট পরিসর থেকে উঠে আসা রবীন বাবু পড়াশুনায় বরাবরই মেধাবী ছিলেন। কিন্তু কলেজে পড়ার সময় থেকে জড়িয়ে পরলেন ছাত্র রাজনীতিতে। লেখাপড়া গেল চুলোয়। অভাবের সংসারে নিত্য অশান্তি লেগেই থাকত। কিন্তু রবীনের মাথায় তখন দিন বদলের নেশা।

অসম্ভব ভাল বাগ্মী ছিলেন। যে কোন সভা সমিতিতে রবীন বাবুর বক্তৃতা শোনার জন্য লোক অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করতেন। যেমন ভঙ্গিমা তেমন গলার স্বর। সাথে প্রতিটি ঘটনার সাল তারিখের নিখুঁত বর্ণনা। মোহাবিষ্ট হয়ে শুনতেন সবাই।

নেতা থেকে মন্ত্রী হতে বেশি সময় অপেক্ষা করতে হয়নি স্বাভাবিক কারনেই। জনপ্রিয়তাও যথেষ্ট। কাজের লোকও বটে।

ইদানীং ব্যস্ত তিনি আগত সমাবেশ নিয়ে। বছরের এই সময়টা রবীন বাবুদের নাওয়া খাওয়ার সময় থাকে না। সাংগঠনিক কাজকর্ম সামলানো থেকে বক্তব্য পেশ করা। ঝক্কি অনেক।

কিন্তু কয়েকদিন যাবত একটা অদ্ভুত সমস্যা অনুভব করছেন রবীন বাবু। ডাকসাইটে নেতা তিনি। কিন্তু বেশি ভিড় সহ্য করতে পারছেন না। কথার খেই হারিয়ে যাচ্ছে মাঝে মাঝেই।
এদিকে সমাবেশের সময় এগিয়ে আসছে। চারদিকে পোস্টারে ছয়লাপ। মুখ্য বক্তা হিসাবে রবীন বাবুর নাম।

দেখতে দেখতে সমাবেশের দিন এসে গেলো। গ্রামগঞ্জ, শহরতলী থেকে কাতারে কাতারে লোক উপস্থিত হয়েছে সমাবেশে।

সবাই শ্লোগান দিচ্ছে। গান বাজছে। একটা উৎসবময় আবহ। সঞ্চালক ঘোষনা করলেন এবার মুখ্য বক্তার বক্তৃতার পালা। হাততালিতে ফেটে পড়ছে চারদিক। রবীন বাবুর হাতে মাইক্রোফোন তুলে দিলেন সঞ্চালক।

দরদর করে ঘাম বইছে রবীনবাবুর শরীর থেকে। কিচ্ছু শব্দ মনে আসছে না তার। ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে আছেন দিগন্তব্যাপী জনসমুদ্রের দিকে। শ্লোগান উঠছে মুহুর্মুহু। সময় এগিয়ে চলেছে। কিন্তু একটা শব্দও এখনো উচ্চারিত হয়নি রবীন বাবুর মুখ থেকে। একটা অস্ফুট গোঙানি বেরিয়ে আসছে তার মুখ থেকে। গলা শুকিয়ে কাঠ। মাইক্রোফোনটা ছুড়ে ফেলে পালাতে চাইলেন মঞ্চ  থেকে। শ্লোগান পালটে পরিনত হল চিৎকার। রবীন বাবু পালাতে গিয়ে সজোরে পড়লেন মঞ্চের উপর থেকে।

স্ত্রী জয়ার ডাকে ঘুম ভাঙল। ঢকঢক করে বেশ কিছুটা জল খেলেন। ক্যালেন্ডারে চোখ গেল। এখনো চারদিন বাকি সমাবেশের। সকাল হতেই ছুটলেন ডাক্তারের কাছে। সব শুনে ডাক্তারবাবু বললেন গ্লসোফবিয়ায় সম্পূর্ণ বিশ্রাম প্রয়োজন বেশ কিছু দিন। রবীনবাবু হতাশ হয়ে বসে রইলেন।


জুলাই ১৬, ২০১৮। সোমবার।

No comments:

Post a Comment

দুঃসময়

সত্যি কি আমাদের কিছু আসে যায়? সন্ত্রাসে মরে সেনা মন্ত্রীরা করে হায় হায়। সত্যি কি আমাদের কিছু আসে যায়? মৃত সেনার ছবি খবরের পাতায় পাতায়। ...