Saturday, July 21, 2018

হেডলাইন

ভোরবেলা ঘুম থেকে উঠে সাইকেলে খবরের কাগজ বিলি করেই সংসার চালান বিশুদা। তারপর বেলা হলে টুকিটাকি কাজ ও লোকের ফাইফরমাশ খাটা।

অভাবের সংসারে আশার আলো মেয়ে বনানী। ছোট্ট থেকেই লেখাপড়ায় অত্যন্ত মেধাবী মা মরা মেয়েটা। বাড়ির সব কাজ সামলে তারপর লেখাপড়া। ইস্কুলের দিদিমনিদের ছত্রছায়ায় বেড়ে ওঠা।

গতকাল দুপুরের পর থেকে দম ফেলার সময় পাননি বিশুদা। সারা এলাকা এসে ভেঙে পড়েছিল ওনার ঝুপড়ি ঘরে। মিষ্টিমুখ ও সাংবাদিক দের আবদার মেটাতেই কোথা থেকে রাত হয়ে গেল। বনানীর উচ্চমাধ্যমিকে দ্বিতীয় স্থান অধিকার করার খবর টা বিশুদাকে দিয়েছিল পাড়ার লোকেরাই।

দুপুরে যখন রেজাল্ট বেরোনোর খবরটা এসে পৌছাল, তখন পাড়ায় হইহই কান্ড শুরু হয়ে গেল। টিভি চ্যানেলের ওবি ভ্যান, খবরেরকাগজ এর সাংবাদিক, এলাকার সাংসদ, বিধায়ক, পাড়ার নেতা, কেউ আসতে বাকি ছিল না। ঝুপড়ি ঘরে জায়গা হবে না বলে পাড়ার ক্লাবে সকলের বসার ব্যবস্থা হয়েছিল।

অনেক রাত হয়ে গেল শুতে। বনানীও ক্লান্ত হয়ে ঘুমিয়ে পড়ল। ঝুপড়ির একফালি ঘর ফুল ও মিষ্টিতে ভরতি। দুটো মিষ্টি মুখে দিয়েই ঘুমিয়ে পড়ল বাবা ও মেয়ে।

আজ ভোরবেলা স্টেশনে কাগজ নিতে এসে চমকে উঠল বিশুদা। সব কাগজের প্রথম পাতায় বড় বড় করে ছবি ছাপা বনানী ও পাশে লাজুক লাজুক মুখের বিশুদার। আজ ওনারাই খবরের হেডলাইন। স্টেশনে সকাল থেকেই সাজো সাজো রব। কেমন যেন স্বপ্নের মতন লাগছিল।

সময় নষ্ট না করে রোজকার মতন সাইকেলে কাগজগুলো গুছিয়ে বেড়িয়ে পড়ল বিলি করার উদ্দেশ্যে। রাস্তায় সবাই অবাক চোখে দেখতে লাগলো এক গরবিত বাবার দৃপ্ত ও উজ্জল সাইকেলে পদচালনা। ছোট ছোট ছেলেমেয়েরা মা-বাবার হাত ধরে ইস্কুলে যাচ্ছে। সকলের চোখ টিভি চ্যানেলের কল্যানে ইতিমধ্যেই বিখ্যাত হয়ে যাওয়া বিশুদার দিকে। এলাকায় আজ খবরের কাগজের চাহিদা অন্যান্য দিনের তুলনায় অনেক অনেক বেশি।

যত রকমের খবরের কাগজ আছে, সব একটা করে রাখলেন নিজেদের জন্য। এগুলো কোনোটাই আজ বিক্রীর জন্য নয়। কোনো খদ্দেরকে ফিরিয়ে দিতে মন চাইছিল না একেবারেই।

জুলাই ২১, ২০১৮। শনিবার।

No comments:

Post a Comment

দুঃসময়

সত্যি কি আমাদের কিছু আসে যায়? সন্ত্রাসে মরে সেনা মন্ত্রীরা করে হায় হায়। সত্যি কি আমাদের কিছু আসে যায়? মৃত সেনার ছবি খবরের পাতায় পাতায়। ...