স্মার্ট ফোন টা হাতে আসার পর থেকেই নিরুপম আচরন কেমন যেন বদলে যেতে লাগল। সদা আলাপী, মিশুকে স্বভাব টা পাল্টে যেতে লাগল দিনে দিনে।
এখন ফেসবুক, হোয়াটস্যাপ এবং বিভিন্ন রকমের গেমস ডাউনলোড করে তাতেই মগ্ন হয়ে থাকে। বিশেষ করে অফিস যাওয়া ও আসার পথে বাসে বা ট্রেনে যেতে আসতে মোবাইলে গেমস খেলাটা একটা ওর নেশায় পরিনত হল।
মধ্য বয়স্ক নিরুপমের ইদানীং ব্লাড সুগার ধরা পরেছে। প্রেশারটাও স্বাভাবিকের থেকে বেশি। কায়িক পরিশ্রম একেবারেই হয় না বললেই চলে। সারাদিন অফিসের ডেস্কেই কেটে যায়।
কিছুদিন হল ওর স্মার্ট ফোনে টেম্পল রান ও সাবওয়ে সার্ফার ডাউনলোড করেছে। সময় কাটানোর জন্য অবসর সময়ে এই গেমস গুলোই এখন ওর পছন্দের। আসক্তিও বাড়ছে দিনে দিনে।
সেদিন বাড়ি ফেরার পথে অন্যদিনের মত টেম্পলরান খেলছিল। সারাটাদিন বেশ ধকল গেছে অফিসে। গেমসে হাতটা এখন ওর ভালই চলে।খেলাটাতেও বেশ সড়গড় হয়ে উঠেছে।
স্কোর করছিল ভাল। দৈত্য টা তাড়া করছে, আর ও স্মার্ট ফোনের টাচ স্ক্রিনে আঙুল দিয়ে সুচারু ভাবে দৌড় করাচ্ছে। কখনো কখনো দৈত্যটা একেবারে ঘাড়ের ওপর এসে পড়ছে কিন্তু নিরুপমের আঙুল ওকে নিয়ে চলেছে সেফ জোনে।
ট্রেন টা আজ খুব ভোগাচ্ছে। এক একটা সিগনালে দাঁড়িয়ে থাকছে অনেকক্ষণ ধরে। ওদিকে গেমস এর স্কোর বেড়ে চলেছে হু হু করে। ওর আগের হাই স্কোরটাও ছাপিয়ে গেল আজ। পুরো মনটাই এখন ডুবে টেম্পলরানে। দৌড় দৌড় দৌড়। বেদম হওয়া মানা।
নিরুপমের পা টা কেমন যেন ভারি হয়ে আসছে। নিশ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে। দৈত্য টা যেন ঘাড়ের ওপর শ্বাস ফেলছে। আঙুল সরতে চাইছে না টাচ স্ক্রিনে।
নিরুপম দৌড়চ্ছে প্রানের ভয়ে। টাচ স্ক্রিনের উপর তার আঙুল এখন আর কোন কাজেই আসছে না। দৈত্যটার থাবা এখন ওর মাথার ওপর এসে পড়েছে।
অনেকক্ষন পড় সিগনাল পেয়ে ট্রেনটা ছাড়ল। ভোঁ এর আওয়াজে নিরুপমের তন্দ্রা ভাঙল। নিশ্বাসের গতি স্বাভাবিক হতে চাইছিল না কিছুতেই। আশে পাশের সহযাত্রী রা অনেকটাই সাহায্য করল স্বাভাবিক হতে। কিন্তু অস্বস্তিটা কাটছে না। অব্যক্ত একটা ভয়ে বাড়ি ফিরে টেম্পলরান এবং সাবওয়ে সার্ফার গেমস দুটো আনইন্সটল করে দিল নিরুপম।
সৌমিক মুখোপাধ্যায়
১৮ মে, ২০১৮। শুক্রবার।
এখন ফেসবুক, হোয়াটস্যাপ এবং বিভিন্ন রকমের গেমস ডাউনলোড করে তাতেই মগ্ন হয়ে থাকে। বিশেষ করে অফিস যাওয়া ও আসার পথে বাসে বা ট্রেনে যেতে আসতে মোবাইলে গেমস খেলাটা একটা ওর নেশায় পরিনত হল।
মধ্য বয়স্ক নিরুপমের ইদানীং ব্লাড সুগার ধরা পরেছে। প্রেশারটাও স্বাভাবিকের থেকে বেশি। কায়িক পরিশ্রম একেবারেই হয় না বললেই চলে। সারাদিন অফিসের ডেস্কেই কেটে যায়।
কিছুদিন হল ওর স্মার্ট ফোনে টেম্পল রান ও সাবওয়ে সার্ফার ডাউনলোড করেছে। সময় কাটানোর জন্য অবসর সময়ে এই গেমস গুলোই এখন ওর পছন্দের। আসক্তিও বাড়ছে দিনে দিনে।
সেদিন বাড়ি ফেরার পথে অন্যদিনের মত টেম্পলরান খেলছিল। সারাটাদিন বেশ ধকল গেছে অফিসে। গেমসে হাতটা এখন ওর ভালই চলে।খেলাটাতেও বেশ সড়গড় হয়ে উঠেছে।
স্কোর করছিল ভাল। দৈত্য টা তাড়া করছে, আর ও স্মার্ট ফোনের টাচ স্ক্রিনে আঙুল দিয়ে সুচারু ভাবে দৌড় করাচ্ছে। কখনো কখনো দৈত্যটা একেবারে ঘাড়ের ওপর এসে পড়ছে কিন্তু নিরুপমের আঙুল ওকে নিয়ে চলেছে সেফ জোনে।
ট্রেন টা আজ খুব ভোগাচ্ছে। এক একটা সিগনালে দাঁড়িয়ে থাকছে অনেকক্ষণ ধরে। ওদিকে গেমস এর স্কোর বেড়ে চলেছে হু হু করে। ওর আগের হাই স্কোরটাও ছাপিয়ে গেল আজ। পুরো মনটাই এখন ডুবে টেম্পলরানে। দৌড় দৌড় দৌড়। বেদম হওয়া মানা।
নিরুপমের পা টা কেমন যেন ভারি হয়ে আসছে। নিশ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে। দৈত্য টা যেন ঘাড়ের ওপর শ্বাস ফেলছে। আঙুল সরতে চাইছে না টাচ স্ক্রিনে।
নিরুপম দৌড়চ্ছে প্রানের ভয়ে। টাচ স্ক্রিনের উপর তার আঙুল এখন আর কোন কাজেই আসছে না। দৈত্যটার থাবা এখন ওর মাথার ওপর এসে পড়েছে।
অনেকক্ষন পড় সিগনাল পেয়ে ট্রেনটা ছাড়ল। ভোঁ এর আওয়াজে নিরুপমের তন্দ্রা ভাঙল। নিশ্বাসের গতি স্বাভাবিক হতে চাইছিল না কিছুতেই। আশে পাশের সহযাত্রী রা অনেকটাই সাহায্য করল স্বাভাবিক হতে। কিন্তু অস্বস্তিটা কাটছে না। অব্যক্ত একটা ভয়ে বাড়ি ফিরে টেম্পলরান এবং সাবওয়ে সার্ফার গেমস দুটো আনইন্সটল করে দিল নিরুপম।
সৌমিক মুখোপাধ্যায়
১৮ মে, ২০১৮। শুক্রবার।
No comments:
Post a Comment