ক্লাস সেভেনে পড়ার সময় এক সন্ধ্যায় পরিমল বাবা মায়ের হাত ধরে মহাজাতি সদনে গেছিল পি সি সরকার জুনিয়ারের ম্যাজিক শো দেখতে। ওই সন্ধ্যেটা পরিমলের জীবন টাই পালটে দিল। তার সব ধ্যান গিয়ে পড়ল ম্যাজিক এর দিকে। দিন রাত নাওয়া খাওয়া ভুলে ম্যাজিক নিয়ে পড়ে রইল পরিমল। লেখাপড়া চুলোয় গেলো। আর ইস্কুল থেকে বিতাড়িত হল বছর তিনেকের মধ্যেই।
বাবা একটা ছোট বেসরকারি অফিসে কাজ করতেন। মা সংসার সামলাতেন। নুন আনতে পান্তা ফুরানোর সংসারে নিত্য অশান্তি লেগেই ছিল। একমাত্র ছেলে পরিমল ম্যাজিক নিয়ে থাকলে ভবিষ্যতে পেট চলবে কি করে?
কিন্তু পরিমলের ম্যাজিকের হাত টা ভালই ছিল। যখন বছর কুড়ি বয়স, তখন থেকেই ছোট ছোট ইস্কুল থেকে ডাক পেতে লাগল ম্যাজিক শোয়ের।
কচিকাঁচা গুলোকে আনন্দ দিতে পারলে সমস্ত দুখ কস্ট ভুলে যেত। যেটুকু টাকা পেত, তা দিয়ে নতুন নতুন ম্যাজিকের সরঞ্জাম কিনতো।
এমনি করেই ইন্দ্রজাল পরিমলের জীবনে ক্রমশ জাল বিস্তার করতে লাগল।
মাস তিনেক আগে একটা বাচ্ছাদের ইস্কুলে ভ্যানিশের খেলাটা দেখানোর পর অনেক গুলো সরঞ্জাম খুজে পাচ্ছিল না। পয়সার লোভ নেই ঠিকই, কিন্তু কস্ট করে পয়সা জমিয়ে কেনা ম্যাজিকের সরঞ্জাম খোয়া গেলে কারই বা ভাল লাগে?
ঘটনার পুনরাবৃত্তি হল পরের দুটো শোতেও। এবার এক সাথে চার খানা পায়রা উড়ে চলে গেল। কিছু যে একটা অতিপ্রাকৃত ঘটছে, তা পরিমল বুঝতে পারল।
আজ দুপুর বেলা ওর ম্যাজিক শো ইন্ডিয়ান ইন্সটিটিউট অফ সেরিব্রাল পালসির ছোট্ট ছোট্ট স্পেশাল শিশুদের মাঝে। ফুলের মত শিশুগুলোকে দেখে পরিমলের বুকের ভিতর টা কেমন যেন মোচড় মারছিল।
গ্রিনরুমে গিয়ে ম্যাজিকের ড্রেসটা গায়ে চাপাতেই এক ঐশ্বরিক শক্তি ভর করল পরিমলের ভিতর।
স্টেজে উঠল। শিশু গুলোর কলকলানি শুনতে পাচ্ছে। টিচার রা আপ্রান চেস্টা করছেন ওদের শান্ত করে রাখতে।
ম্যাজিক স্টিক টা হাতে নিয়ে, বিশেষ ভংগিমায় ঘোরাতেই গোটা হল শান্ত হয়ে গেল। একটা আওয়াজও পাওয়া যাচ্ছে না। পাখার আওয়াজটাও প্রকট এখন। দেখল একে একে সবাই অচৈতন্য হয়ে পড়ছে।
পরিমল ভীষন ভয় পেয়ে গেল। কিছু কি ভুল হল? দরদর করে ঘামতে লাগলো। তার ম্যাজিকের পোশাক ভিজে গেলো।
কিছু সময় পরে পরিমল দেখল ছোট্ট ছোট্ট ফুটফুটে ছেলে মেয়ে গুলির ঘুম ভাংছে। একটা অদ্ভুত আবেশ জড়িয়ে রয়েছে তাদের চোখে মুখে। তারা হাসছে, খেলছে আর পাঁচটা স্বাভাবিক শিশুর মতন। তাদের অভিভাবকেরাও উচ্ছসিত। করতালিতে ফেটে পড়ছে গোটা হল। আজ স্বয়ং পরমেশ্বর ভর করেছিলেন পরিমলের ইন্দ্রজালের খেলায়।
আজ পরিমলের ইন্দ্রজাল স্বার্থক।
সৌমিক মুখোপাধ্যায়
৭ মে, ২০১৮, সোমবার।
বাবা একটা ছোট বেসরকারি অফিসে কাজ করতেন। মা সংসার সামলাতেন। নুন আনতে পান্তা ফুরানোর সংসারে নিত্য অশান্তি লেগেই ছিল। একমাত্র ছেলে পরিমল ম্যাজিক নিয়ে থাকলে ভবিষ্যতে পেট চলবে কি করে?
কিন্তু পরিমলের ম্যাজিকের হাত টা ভালই ছিল। যখন বছর কুড়ি বয়স, তখন থেকেই ছোট ছোট ইস্কুল থেকে ডাক পেতে লাগল ম্যাজিক শোয়ের।
কচিকাঁচা গুলোকে আনন্দ দিতে পারলে সমস্ত দুখ কস্ট ভুলে যেত। যেটুকু টাকা পেত, তা দিয়ে নতুন নতুন ম্যাজিকের সরঞ্জাম কিনতো।
এমনি করেই ইন্দ্রজাল পরিমলের জীবনে ক্রমশ জাল বিস্তার করতে লাগল।
মাস তিনেক আগে একটা বাচ্ছাদের ইস্কুলে ভ্যানিশের খেলাটা দেখানোর পর অনেক গুলো সরঞ্জাম খুজে পাচ্ছিল না। পয়সার লোভ নেই ঠিকই, কিন্তু কস্ট করে পয়সা জমিয়ে কেনা ম্যাজিকের সরঞ্জাম খোয়া গেলে কারই বা ভাল লাগে?
ঘটনার পুনরাবৃত্তি হল পরের দুটো শোতেও। এবার এক সাথে চার খানা পায়রা উড়ে চলে গেল। কিছু যে একটা অতিপ্রাকৃত ঘটছে, তা পরিমল বুঝতে পারল।
আজ দুপুর বেলা ওর ম্যাজিক শো ইন্ডিয়ান ইন্সটিটিউট অফ সেরিব্রাল পালসির ছোট্ট ছোট্ট স্পেশাল শিশুদের মাঝে। ফুলের মত শিশুগুলোকে দেখে পরিমলের বুকের ভিতর টা কেমন যেন মোচড় মারছিল।
গ্রিনরুমে গিয়ে ম্যাজিকের ড্রেসটা গায়ে চাপাতেই এক ঐশ্বরিক শক্তি ভর করল পরিমলের ভিতর।
স্টেজে উঠল। শিশু গুলোর কলকলানি শুনতে পাচ্ছে। টিচার রা আপ্রান চেস্টা করছেন ওদের শান্ত করে রাখতে।
ম্যাজিক স্টিক টা হাতে নিয়ে, বিশেষ ভংগিমায় ঘোরাতেই গোটা হল শান্ত হয়ে গেল। একটা আওয়াজও পাওয়া যাচ্ছে না। পাখার আওয়াজটাও প্রকট এখন। দেখল একে একে সবাই অচৈতন্য হয়ে পড়ছে।
পরিমল ভীষন ভয় পেয়ে গেল। কিছু কি ভুল হল? দরদর করে ঘামতে লাগলো। তার ম্যাজিকের পোশাক ভিজে গেলো।
কিছু সময় পরে পরিমল দেখল ছোট্ট ছোট্ট ফুটফুটে ছেলে মেয়ে গুলির ঘুম ভাংছে। একটা অদ্ভুত আবেশ জড়িয়ে রয়েছে তাদের চোখে মুখে। তারা হাসছে, খেলছে আর পাঁচটা স্বাভাবিক শিশুর মতন। তাদের অভিভাবকেরাও উচ্ছসিত। করতালিতে ফেটে পড়ছে গোটা হল। আজ স্বয়ং পরমেশ্বর ভর করেছিলেন পরিমলের ইন্দ্রজালের খেলায়।
আজ পরিমলের ইন্দ্রজাল স্বার্থক।
সৌমিক মুখোপাধ্যায়
No comments:
Post a Comment