নবনীড়ে এসে একাকিত্বটা একদম চলে গেল বন্দনা দেবীর। স্বামীকে হারিয়ে ছিলেন বছর দশেক আগেই। এখানে এসে সমবয়সী কত জন একসাথে থাকা, আড্ডা, হইচই করে দিন কাটানো।
তিন বছর হল, ছেলে জয়দীপ রেখে গেছে এখানে। প্রথম প্রথম কয়েক মাস খবর নিতো। তারপর থেকে আর নেয় না। প্রতি মাসে কিছু টাকা পাঠিয়ে দেয় আর তার নিজের পেনশনের টাকাটা তো আছেই।
আসলে জয়দীপ তো খুব ব্যস্ত, অফিসে কাজের অনেক চাপ। তার ওপর নিজের সংসার। সেখানে বন্দনা দেবীকে দেখার সময় কই?
বন্দনা দেবীও নবনীড়ে বেশ ভালই আছেন। অন্তত আগের থেকে। প্রথম প্রথম খুব মন খারাপ লাগতো। সারাটাদিন মনমরা হয়ে থাকতেন। তারপর সবই সয়ে গেল।
হাতের কাজ খুব ভালই ছিল। ইস্কুলে হাতের কাজের শিক্ষিকা ছিলেন। এখানে অবসর সময়ে সেগুলোই শেখাতে শুরু করলেন ঘর সংসার হীন, অনাথ, স্বামী পরিত্বক্তা মেয়ে গুলোকে। ওরা বন্দনা দেবী কে মা বলে ডাকে। পরম যত্নআত্মি করে। উনিও ওদের বিপদে আপদে যতটা সম্ভব পাশে থাকার চেস্টা করেন। অনুপ্রানিত করেন সকলকে নিজের পায়ে দাঁড়াতে। সাবলম্বী হতে।
এই সত্তর বছর বয়সে এখন প্রতিটাদিন নতুন করে বাঁচার রসদ খুঁজে পান বন্দনা দেবী। পয়লা বৈশাখ, রবীন্দ্র জয়ন্তী, দোল যাত্রা, রথ যাত্রা, দুর্গাপূজা, বড়দিন সব কিছু তেই আনন্দটা চুটিয়ে উপভোগ করেন।
আপন সন্তানের মা ডাক বহুদিন না শোনার আক্ষেপ ঘুচিয়ে দেয় এই অনাথ, অনাত্মীয় মেয়ে গুলো। গতকাল মাদারস ডে তে ওরা আনন্দে মাতিয়ে রাখল সারাটাদিন।
গতকাল সারাদিন মোবাইল দেখার সময় পান নি বন্দনা দেবী। রাতে শোবার সময় মোবাইলটা হাতে নিয়ে দেখলেন। না কোন মিসড কল দেখতে পেলেন না।
সৌমিক মুখোপাধ্যায়
১৪ মে, ২০১৮। সোমবার।
তিন বছর হল, ছেলে জয়দীপ রেখে গেছে এখানে। প্রথম প্রথম কয়েক মাস খবর নিতো। তারপর থেকে আর নেয় না। প্রতি মাসে কিছু টাকা পাঠিয়ে দেয় আর তার নিজের পেনশনের টাকাটা তো আছেই।
আসলে জয়দীপ তো খুব ব্যস্ত, অফিসে কাজের অনেক চাপ। তার ওপর নিজের সংসার। সেখানে বন্দনা দেবীকে দেখার সময় কই?
বন্দনা দেবীও নবনীড়ে বেশ ভালই আছেন। অন্তত আগের থেকে। প্রথম প্রথম খুব মন খারাপ লাগতো। সারাটাদিন মনমরা হয়ে থাকতেন। তারপর সবই সয়ে গেল।
হাতের কাজ খুব ভালই ছিল। ইস্কুলে হাতের কাজের শিক্ষিকা ছিলেন। এখানে অবসর সময়ে সেগুলোই শেখাতে শুরু করলেন ঘর সংসার হীন, অনাথ, স্বামী পরিত্বক্তা মেয়ে গুলোকে। ওরা বন্দনা দেবী কে মা বলে ডাকে। পরম যত্নআত্মি করে। উনিও ওদের বিপদে আপদে যতটা সম্ভব পাশে থাকার চেস্টা করেন। অনুপ্রানিত করেন সকলকে নিজের পায়ে দাঁড়াতে। সাবলম্বী হতে।
এই সত্তর বছর বয়সে এখন প্রতিটাদিন নতুন করে বাঁচার রসদ খুঁজে পান বন্দনা দেবী। পয়লা বৈশাখ, রবীন্দ্র জয়ন্তী, দোল যাত্রা, রথ যাত্রা, দুর্গাপূজা, বড়দিন সব কিছু তেই আনন্দটা চুটিয়ে উপভোগ করেন।
আপন সন্তানের মা ডাক বহুদিন না শোনার আক্ষেপ ঘুচিয়ে দেয় এই অনাথ, অনাত্মীয় মেয়ে গুলো। গতকাল মাদারস ডে তে ওরা আনন্দে মাতিয়ে রাখল সারাটাদিন।
গতকাল সারাদিন মোবাইল দেখার সময় পান নি বন্দনা দেবী। রাতে শোবার সময় মোবাইলটা হাতে নিয়ে দেখলেন। না কোন মিসড কল দেখতে পেলেন না।
সৌমিক মুখোপাধ্যায়
১৪ মে, ২০১৮। সোমবার।
No comments:
Post a Comment