Saturday, September 1, 2018

পার করেগা...

অনেক শ্রাবন দেখলাম এই জীবনে। ছেলেবেলায় শ্রাবন বলতে ছিল সারা মাস জুড়ে  বাইশ তারিখের প্রস্তুতি। সকলের আদরের, প্রানের ঠাকুরের প্রয়াণ দিবস। গান, কবিতা, নাটক এই সব নিয়ে আট থেকে আশির মেতে থাকা। পাড়ায় পাড়ায় ছোট ছোট মঞ্চ তৈরি করে শ্রদ্ধা জানানো।

ইদানীং শ্রাবন এলেই পথ চলতি সাধারন মানুষের নাভিশ্বাস ওঠার অবস্থা। বিশেষ করে শনিবার সন্ধ্যের পর থেকেই রাজপথ চলে যেতে থাকে ভক্তদের হাতে। হঠাৎ করে মানুষের মধ্যে এত ভক্তি ভাব এল কোথা থেকে এই ভাবনা মনে চলে আসে বারবার।

এইসব ভক্তদের উতসাহিত করার জন্য পথের ধারে সারি সারি মনোরঞ্জন এর পসরা। অঢেল খাবারের আয়োজন।

আফশোস হয়, যারা এই খাবার এর আয়োজন করেন, তারা পালা করে সারা বছর ধরে যদি এই প্রচেষ্টা চালান, তাহলে গরীব মানুষ গুলো দুমুঠো খেতে পারে।

প্রশাসক যিনিই হোন, ধর্মকে ঘাঁটাতে কেউই সাহস পান না। তাই এদের বাড়বাড়ন্ত বেড়েই চলে। কি অসম্ভব এনার্জি লেভেল। তারিফ না করে পারা যায় না। কিন্তু সবটাই বাবার মাথায় ঢেলে শেষ হয়ে যায়।

তারস্বরে মাইকে বাবার জয়গান, সাথে মজুত সব রকমের বাবার প্রসাদ। বাচ্চা থেকে মাঝবয়সী সবাই প্রসাদ প্রার্থী। কাঁধে বাঁক। মুখ ভরতি লালথুতু যা মাঝে মাঝে ভরিয়ে দিচ্ছে রাজপথ। রাস্তা জুড়ে প্লাস্টিকের গ্লাস, কাপ, শালপাতার ঠোঙা।

এ কোন পথে চলেছে কোলকাতা? বাংলাভাষী সাধারন মানুষজন নিজেদের সব কিছু জলাঞ্জলি দিয়ে মেতে উঠছে অন্য রাজ্যের সংস্কৃতি নিয়ে।

এ এক নতুন কালচার।
এক নতুন রাজনীতি।
এক নতুন ভীতি।
এক নতুন দুঃসময়।

১২ আগস্ট, ২০১৮। রোববার।

No comments:

Post a Comment

দুঃসময়

সত্যি কি আমাদের কিছু আসে যায়? সন্ত্রাসে মরে সেনা মন্ত্রীরা করে হায় হায়। সত্যি কি আমাদের কিছু আসে যায়? মৃত সেনার ছবি খবরের পাতায় পাতায়। ...